সলিমপুরে তাণ্ডবের মূলহোতা শীর্ষ সন্ত্রাসী নলা কাশেম অস্ত্রসহ ধরা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ন /
সলিমপুরে তাণ্ডবের মূলহোতা শীর্ষ সন্ত্রাসী নলা কাশেম অস্ত্রসহ ধরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিনের আতঙ্কের আরেক নাম—‘নলা কাশেম’। অবশেষে সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসী পুলিশের জালে ধরা পড়েছে, তাও আবার পালানোর সময় ধাওয়া খেয়ে।

বুধবার (গতকাল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেম (৪৩) নামে এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামি।

পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ‘নলা কাশেম’ নামেই বেশি পরিচিত এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে—যা তাকে এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়—যা প্রমাণ করে, গ্রেপ্তারের মুহূর্তেও তিনি সশস্ত্র ছিলেন।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কাশেম পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে পুলিশ দ্রুত ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য : চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর—দীর্ঘদিন ধরেই এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত।

ভৌগোলিকভাবে সীতাকুণ্ডে হলেও, নগরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি কার্যত শহরের ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন অঞ্চল হয়ে উঠেছিল। পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা—এই অবস্থান একে আরও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, জঙ্গল সলিমপুরে দুই সন্ত্রাসী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। একপক্ষে মোহাম্মদ ইয়াসিন, অন্যপক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক (বহিষ্কৃত) যুগ্ম সম্পাদক।

র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী হামলার পেছনে এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বই বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সমালোচনার মুখে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে জঙ্গল সলিমপুরে বড় অভিযান চালায়।

অভিযানটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ—প্রথমবারের মতো বড় ধরনের অপারেশন রক্তপাত ছাড়াই শেষ হয়। যদিও অভিযানের আগেই অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এরপর পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় যৌথ বাহিনী এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয় পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প।

‘নলা কাশেম’ ধরা পড়েছে—কিন্তু সন্ত্রাসের শেকড় কি উপড়ে ফেলা গেছে? পালিয়ে যাওয়া সহযোগীরা কোথায়? আর দুই পক্ষের রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব কি সত্যিই থামবে? সলিমপুর এখনো সেই উত্তরের অপেক্ষায়।