
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন দল।
সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে প্রাথমিকভাবে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে।
দলটির কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগর শাখার কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেই তালিকা থেকে শামসুজ্জামান হেলালীকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি জানান, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামসুজ্জামান হেলালীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
শামসুজ্জামান হেলালী চট্টগ্রাম নগর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন মোহাম্মদ মনজুর আলম।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা দলীয় মনোনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন শামসুজ্জামান হেলালী।
তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করে ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট পান। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা হেলালীর জন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সাধারণত অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে থাকে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তোলে।
এই বাস্তবতায় শামসুজ্জামান হেলালীর জন্য নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
তবে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি এবং দলীয় সমর্থন তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য দলগুলো কাদের প্রার্থী করে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কী ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে।






















আপনার মতামত লিখুন :