
চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় একটি অফিসে প্রায় দেড় কোটি টাকা চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ২ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শাওন (২৩), মো. হৃদয় ওরফে সাগর (২০), মো. রাসেল ওরফে চেগা রাসেল (২৩) এবং মো. ইমাম হোসেন (৪৪)। তারা ভোলা, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে নগরের আগ্রাবাদ মোড়ের বিএম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি অফিসে ঢুকে কর্মীরা দেখতে পান কক্ষ এলোমেলো এবং জানালার গ্রিল কাটা। পরে হিসাব করে দেখা যায়, ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, তিনটি এফডিআর সনদ এবং একটি ডিভিআর চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকা থেকে শাওনকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সহযোগী হৃদয় ও রাসেলকে নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করে তারা চুরি করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে হৃদয় ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ডলার এবং ৩ লাখ টাকা ও ৫০০ ডলার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির নেতৃত্বে থাকা মনির হোসেন চুরির পর একটি পরিত্যক্ত কক্ষে টাকা ভাগ করে দেন। প্রত্যেকে ৭ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ডলার করে পান। আশ্রয়দাতা হিসেবে ইমাম হোসেন পান ২ লাখ টাকা ও ১ হাজার ডলার। বাকি টাকা মনির নিজের কাছে রাখেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার বাংলাবাজার এলাকা থেকে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি তেলের ডিপোর কক্ষ থেকে আরও ৪২ হাজার টাকা ও ৫০০ ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, চক্রটির মূলহোতা মনির হোসেন এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






















আপনার মতামত লিখুন :