
মোহাম্মদ মারুফুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত। পদবী যুগ্ম কমিশনার। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে সম্পৃক্ততার বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মিথ্যা ঘোষণায় মদ, সিগারেট, ফেব্রিক্সসহ নানা রকম অবৈধপণ্য আমদানি থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. মারুফুর রহমান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশের বৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান ঘুষ, দুর্ণীতির মাধ্যমে সংস্থাটিকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এমনই যে, সে অনিয়ম ও দুুর্নীতি নির্বিঘ্ন করতে সংস্থার বিভিন্ন দপ্তরেই একাধিক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগীতায় ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি আদায় করেন কোটি কোটি টাকা। আর সে টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য।
তার বিরুদ্ধে দুদক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি এসব অভিযোগ তদন্ত শুরুর আগেই শেষ করে দেন বলে মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বহু অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)এ। তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র তুলে ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকে চিঠি দিয়েছেন মুজিবুর রহমান খান নামে এক ভুক্তভোগী।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, যুগ্ম-কমিশনার মারুফুর রহমান একজন ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, স্বর্ণ চোরাচালানকারী ও মাদক ব্যবসায়ী। পদ-পদবীর অপব্যবহার করে বনেছেন হাজার কোটি টাকার মালিক।
এছাড়াও দুদকে জমা পড়া অন্যান্য অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত তিন বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মারুফুর রহমান। তিনি ঢাকা কাস্টম হাউসে থাকা অবস্থায় ২০০ কোটি টাকা এবং বেনাপোল কাস্টম হাউসে থাকা অবস্থায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
৩০ লাখ টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র কিনে চাকরিকে বানিয়েছেন টাকার মেশিন :
পিএসসির ড্রাইভার আবেদ আলীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র কিনে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মারুফুর রহমান। পরে কাস্টমস ক্যাডারে যোগদান করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রকাশিত খবরে এমনটাই উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, চাকরিতে যোগদানের পর পদ-পদবীকে পরিণত করেছেন অবৈধ টাকা আয়ের মেশিনে। তিনি ঢাকা, বেনাপোল ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নানান পদবীকে ব্যবহার করে গড়েছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। অবৈধভাবে আয় করেছেন হাজারো কোটি টাকা।
শক্তিশালী সিন্ডিকেটে কারা আছেন এবং যেভাবে আয় করেন মারুফ:
অনুসন্ধান করতে গিয়ে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমানের অধীনে চলা সবচেয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেটে রয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে একজন সহকারী কমিশনার, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিনজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। শক্তিশালী সিন্ডিকেটটির মাধ্যমে মদ, সিগারেটের বিভিন্ন চালান প্রতি ২ থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন করে কাস্টমস হাউসকে পরিণত করেছেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে।
এছাড়াও মারুফের অধীনে পৃথক অপর এক সিন্ডিকেটে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো নজরুল, রেজাউল এবং ‘ফালতু’ রাজু। প্রতি সপ্তাহে এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেও অন্তত ১ কোটি টাকার মতো ঘুষ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। সিন্ডিকেট সদস্য রাজু কাজ করেন গ্রিন চ্যানেল থেকে অবৈধ ফেব্রিক্স আমদানিতে। এ সেক্টরে চালানপ্রতি ২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মারুফকে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সজিবের মাধ্যমেও প্রতি সপ্তাহে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করেন মারুফ। যা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট। অফডকে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের মাধ্যমে প্রতিটি রফতানি চালান থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেন এ কর্মকর্তা।
বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজ বন্দর ছাড়ার আগে নৌবাণিজ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। সমুদ্রগামী জাহাজের সব মাশুল পরিশোধ করা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র নিতে না পারলে বাড়তি মাশুল গুনতে হয়। এটিকে মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষের মধ্যেমে মারুফুর রহমান সিন্ডিকেট ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করে দেন।
মারুফুর কাস্টমস হাউজের প্রতি জেটির ‘এআরও’দের কাছ থেকে মাসোহারা নেন ২ লাখ টাকা। কোন ‘এআরও’ মাসোহারা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে বদলি-চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেন যুগ্ম-কমিশনার মারুফুর।
অবৈধ টাকা দিয়ে উঠতি মডেলদের নিয়ে মারুফের নৈশ পার্টি:
অবৈধ টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও ফ্ল্যাটে নিয়মিত নৈশ পার্টির আয়োজন করেন মারুফুর। জানা গেছে,প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হোটেল রিজেন্সিতে একজন সহকারী কমিশনার এবং ‘এআরও’কে নিয়ে করেন নৈশপার্টি। ওই পার্টিতে অংশ নেন রেশমা, প্রীতি, রুনা খানের মতো উঠতি কয়েকজন মডেল। সম্প্রতি গুলশানের একটি ক্লাবে তাকে দেখা যায় বিদ্যা সিনহা মিম এবং মডেল পিয়াসার সঙ্গে। মদ ও নারীতে ভরপুর ওই সব পার্টিতে কাস্টমসের অনেক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী লোকজন অংশ নেন।
অনুসন্ধানে উঠে আসা মারুফুর রহমানের অবৈধ যত সম্পদ :
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম-কমিশনার মারুফ রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্ণীতি ও অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য নিয়ে গেল মাসে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে কাস্টমসের মারুফকে জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘আলিফ লাইলা’র ‘আলাদিনের চেরাগ’ বাতির সাথেই তুলনা করেছেন।
এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘আলিফ লাইলা’র বাংলাদেশ সংস্করণে আলাদিনের ভূমিকায় রাখা হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের যুগ্ম-কমিশনার মো. মারুফুর রহমানকে। যিনি পদ-পদবীর অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
তার ধন সম্পদের সাম্রাজ্য বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিস্তৃতি পেয়েছে ইউরোপ-আমেরিকায়। নিউইয়র্ক-লন্ডনের অভিজাত এলাকায় তার রয়েছে বাড়ি-ফ্ল্যাট। সংগ্রহে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। তার সৌখিনতা হার মানিয়েছে বিলিনিয়দেরও।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. মারুফুর রহমান মানিকগঞ্জ সদরের বেতিলা মিউরা এলাকায় ২০০ কাঠা, শিবালয় এলাকায় ৫০ কাটা, নবগ্রাম, কৃষ্ণপুর, মহাদেবপুর ও ঘিওর এলাকায় কিনেছেন প্রায় চারশত বিঘা জমি।
২০২২ সালে ঢাকার অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিকের ‘আই’ ব্লকে কিনেছেন ২০ কাঠা জমি। ঢাকার পূর্বাচলের ১৩ নং ব্লকে রয়েছে চার কাঠা জমি।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিকের সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছেন মারুফুর রহমান। তাছাড়া চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে রয়েছে তার তিনটি সোনার দোকান। এসব দোকান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা চোরাচালানের অবৈধ সাম্রাজ্য।
এছাড়াও সিরাজগঞ্জে ২০ কোটি টাকা মূল্যের মারুফ এগ্রো ফার্ম নামে একটি খামার রয়েছে মারুফুর রহমানের। মানিকগঞ্জের ডেরা রিসোর্ট ও স্পা’য় রয়েছে তার বড় বিনিয়োগ। অভিজাত গুলশান ক্লাবে তিনি ১ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য পদ নিয়েছেন।
নিজের পাশাপাশি দুই স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও রয়েছে অঢেল সম্পদ। অভিযোগে বলা হয়েছে, খিলক্ষেতে তার প্রথম স্ত্রীর নামে ছয়টি ফ্ল্যাট এবং দুটি বিলাসবহুল হ্যারিয়ার গাড়ি কিনেছেন, যার একটির নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ ১৪-২৬২৯, অন্যটির নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ ১৩৫৪৬৫।
বর্তমানে বেশির ভাগ সময় ওই স্ত্রী নিউইয়র্কে বসবাস করেন। বিশ্বের ব্যয় বহুল এ শহরে তাদের রয়েছে বেশ কিছু ফ্ল্যাট ও গাড়ি। তিনি নিউইয়কের অভিজাত ‘সিএন টাওয়ারে’ বসবাস করেন। যার ফ্ল্যাট নম্বর- ব্রঙ্কস-আইডি-৮৯১৯৫৯ সিএন টাওয়ার (৪র্থ তলা)। এ ছাড়া ওই স্ত্রীর নামে ইংল্যান্ডেও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে অপর একটি সূত্র বলছে হ্যারিয়ার গাড়িতে করে উঠতি বয়সি নানা মডেলদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন মারুফুর। নারীঘটিত নানান কারণে তার প্রথম স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।
মারুফুরের দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে গুলশানে সাততলাবিশিষ্ট ভবন এবং একটি গাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ‘সিআরভি’ প্রাইভেট গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ২৬-৯৮৪৫। এই স্ত্রীর নামে লন্ডনেও বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তার নামে পাচার করেছেন শত শত কোটি টাকা। তার লন্ডনের বিচমন হিলে রয়েছে একটি বাড়ি।
মারুফের ছোট ভাইয়ের নামে টয়োটা প্রাডো গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ছয় কোটি টাকারও বেশি। তিনি নিজে চট্টগ্রামে একটি ভেলফায়ার এবং একটি প্রিমিও গাড়ি ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তৎকালীন রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের শ্যালক বলে পরিচয় দিয়ে আরও অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন।
যেভাবে ক্ষমতাধর মারুফুর রহমান :
একসময় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের শ্যালক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে রাখতেন। বর্তমানে এনবিআরের দুজন মেম্বারের নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতির মাফিয়া হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া তিনি বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যানের নিকটাত্মীয় বলেও সব জায়গাতে নিজেকে জাহির করেন।
আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মারুফুর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে থাকার জন্য এক উপদেষ্টাকে ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে তিনি নিজেই বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করেছেন। একথা বলে তিনি ঊর্ধ্বতন এবং অধস্তনদের সব সময়ে ভয়ের মধ্যে রাখেন।
বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আওয়ামী লীগের ফান্ডেও শত কোটি টাকা বিনিয়োগ মারুফের!
বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আওয়ামী লীগের ফান্ডে। শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস হাউসের যুগ্ম-কমিশনার মারুফ রহমানের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মারুফুর রহমান মানিকগঞ্জ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং যুবলীগের সদস্য ছিলেন। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আগের কমিশনারকে কাস্টমস হাউজ বন্ধ রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
জানা গেছে, এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। তবে এই অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য গত মে-জুন মাসে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে।
এর ফলে শিল্প, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্দর, আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, সেবা খাত লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।
গত ২৮ ও ২৯ জুন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কমপ্লিট শাটডাউন থাকে। আর এটি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান। তার নির্দেশে জেটি কাস্টমস এবং গেইট ডিভিশন বন্ধ রাখা হয়। এতে দেশের রাজস্ব ক্ষতি হয় ৫ হাজার কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, মারুফুর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন দলটির ফান্ডে।
তাছাড়া গত ২৬ জুন দুপুর ২টা ২৯ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মার্চ টু এনবিআর এর জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে বলেন মারুফ।
আর ২৮ জুন সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের এনবিআর ঐক্য পরিষদের ডাকে কমপ্লিট শার্টডাউন চলার ঘোষণা দেয় মারুফ, কাস্টম হাউসের অফিসারদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে।
গত কাস্টমস হাউস বন্ধ রেখে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করায় তখনকার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
শুধু তাই নয়, একই অপরাধ দেখিয়ে আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় গত ১৮ আগস্ট।
তবে যে অপরাধ বা অভিযোগে এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করেছে,তার সবকিছু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান করলেও অজানা এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
তার এসব অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দুদক ও অন্যান্য সংস্থায় বার বার অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। টাকা ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযোগের সব ফাইল চাপা দিয়েছেন মারুফুর। এভাবে পার পেয়ে কাস্টমসের অনিয়ম-দুর্নীতির বরপুত্র হয়েছেন যুগ্ম কমিশনার মারুফুর।
সচেতন মহলের মন্তব্য :
একজন ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা কিভাবে সন্তানদের লন্ডনে পড়ালেখা করান, সেখানে স্ত্রীকে বাড়ি কিনে দেন এবং দেশে এত সম্পদের মালিক বনে যান? প্রশ্নের উত্তরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং দুদকের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
এভাবে যদি তথ্য প্রমাণ থাকার পরও দুর্নীতিবাজরা অধরা থেকে যান তাহলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিষয়টি দায়িত্বশীলদের কঠোরভাবে দেখা উচিত। না হয় এই কর্মকর্তার চাকরি রয়েছে ২০৪৪ সাল পর্যন্ত। ততদিন সরকার রাজস্ব হারাবে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা অভিযোগের বিষয়ে কে কি বলছেন?
চট্টগ্রাম কাস্টম’স হাউজের যুগ্ম-কমিশনার মো. মারুফুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এমনকি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সশরীরে সাক্ষাতের জন্য গেলেও তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) এম এইচ কবিরের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
তবে বাংলাবার্তাকে তিনি বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। শেয়ার বিজকে বলেন, আমাকে হয়রানি করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। আমার বিদেশে কোন বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি নেই।
তবে এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার মো. আবদুর রহমান খান বলেন, অনিয়ম ও অপরাধের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা মিলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।






















আপনার মতামত লিখুন :