দুই দিনে ছয় শিশু নির্যাতন: চট্টগ্রামে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ২৪, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন /
দুই দিনে ছয় শিশু নির্যাতন: চট্টগ্রামে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে পাঁচটি এলাকায় ছয় শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও অভিযুক্তদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। একটি ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষুব্ধ লোকজন।

নগরের বাকলিয়া, চান্দগাঁও, খুলশি, ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শিশুদের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হয়েছে।

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধের বিচারহীনতা এবং পারিবারিক সচেতনতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি টেকবাজার এলাকায়। চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ৫৫ বছর বয়সী মুদি দোকানি আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, শিশুটির পরিবার নিয়মিত ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করত। গত ১৫ মে শিশুটিকে একা পেয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালেও সামাজিক সংকোচ ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবার প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখে।

পরে শুক্রবার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাতে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর হোসেন মামুন বলেন, পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

একই রাতে খুলশি থানার আমবাগান এলাকায় ১০ ও ৬ বছর বয়সী দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবদুল বাতেন নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে খুলশীর আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন একটি মাদ্রাসায়। অভিযুক্তের বাড়ি কুমিল্লায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেন।

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষকতার সুবাদে ওই এলাকায় বসবাস করতেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ভুক্তভোগী দুই শিশুরও শিক্ষক ছিলেন তিনি। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এহসান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

একই দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদনগর এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ১০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ ঘটনায় ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

একাধিক ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা এখন শুধু বাইরের নয়, পরিচিত পরিবেশের মধ্যেও বড় হুমকির মুখে পড়েছে।