শিক্ষার সংকট কাটাতে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ন /
শিক্ষার সংকট কাটাতে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর

চট্টগ্রামে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক আওলাদে রাসুল (দ.) গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)–এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১২তম শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার নগরের জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে এ সমাবেশের আয়োজন করে ‘শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট’।

এবারের সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘শিক্ষার সংকট ও উত্তরণের উপায়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’।

ট্রাস্টের উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। ট্রাস্টের মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টির বাণী পাঠ করেন প্রশাসনিক ও সমন্বয় কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সৃষ্টিশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসিইউ নির্মাণে ট্রাস্টের অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এ ধরনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

গেস্ট অব অনার অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, দেশে কর্মমুখী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজের ঝরে পড়া ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন পটিয়া খলিলুর রহমান মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া খলিল মীর কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মিছবাহ উর রহমান এবং সীতাকুণ্ড লতিফা সিদ্দীকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরসহ ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, কর্ণফুলি, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার সরকারি-বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের তিন শতাধিক অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রভাষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অংশ নেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাসকিয়া তুন নুর তানিয়া এবং উত্তর কাট্টলী আলহাজ মোস্তফা-হাকিম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ কারি মাওলানা সোহাইল উদ্দিন।

হামদ ও নাত পরিবেশন করেন মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক। পরে মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন মাওলানা সৈয়দ জিয়াউদ্দিন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমাবেশ উদযাপন পর্ষদের সদস্য বটন কুমার দে, অধ্যক্ষ আবুল কাছেম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দা রেহেনা আফরোজসহ আরও অনেকে।