
সেকেন্ডের ব্যবধান। হয়তো মাত্র কয়েক কদম পিছিয়ে থাকা। আর এই সামান্য দূরত্বই চিরতরে আলাদা করে দিল একটি পরিবারকে। চোখের সামনে আস্ত একটা পাহাড় ধসে পড়ল বসতঘরের ওপর।
ঘর থেকে কোনোমতে বের হতে পারলেন মা-বাবা, কিন্তু পাশের কক্ষেই চিরতরে আটকা পড়ে রইল ১২ বছরের অবুঝ শিশু সুমাইয়া।
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকায় আজ বুধবার দুপুরের এই নিয়তি যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, এখানে পাহাড়ের নিচে মানুষের জীবন কতটা সস্তা, কতটা অনিশ্চিত।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা যখন মাটির স্তূপ সরিয়ে সুমাইয়ার নিথর দেহটি বের করে আনেন, তখন চশমা পাহাড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল স্বজনদের আহাজারিতে। সে এই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের তপ্ত রোদের মাঝে হঠাৎ করেই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চশমা পাহাড়ের পাদদেশ। মুহূর্তের মধ্যে উপর থেকে ধসে পড়ে টন কে টন মাটি।
ধেয়ে আসা মাটির ধস যখন ফারুক হোসেনের ঘরটিকে গ্রাস করছিল, তখন তীব্র আতঙ্ক আর বাঁচার আকুলতায় ঘর থেকে কোনোমতে ছিটকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন সুমাইয়ার মা ও বাবা।
কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়ার। ধসে পড়া মাটি মুহূর্তেই তাকে লণ্ডভণ্ড ঘরের নিচে চাপা দেয়।
নিজ ঘরের চেনা দেয়াল আর পাহাড়ের মাটিই শেষ পর্যন্ত সুমাইয়ার জন্য কবর হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান জানান, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তারা পাহাড়ধসের খবর পান।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রায় আধা ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টা চালিয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাটির নিচ থেকে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রতি বছর বর্ষা কিংবা ভারী বর্ষণের মৌসুমে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের বারবার সতর্কবার্তা এবং উচ্ছেদ অভিযানের পরও কেন বারবার এভাবে সুমাইয়াদের প্রাণ দিতে হচ্ছে, সেই চিরন্তন প্রশ্নটি আজ আবারও চশমা পাহাড়ের ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে।






















আপনার মতামত লিখুন :