সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:০০ অপরাহ্ন

এস আলমের পোড়া চিনিতে দূষিত হচ্ছে নদী, মরছে মাছ

সিএসপি ডেস্কঃ

নগরের এস আলম সুগার মিলে লাগা আগুনে পোড়া চিনির বর্জ্য কারখানা থেকে সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে। ফলে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি, নদী থেকে মাছ মরে ভেসে উঠছে।

বুধবার (৬ মার্চ) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, এস আলমের পোড়া চিনির বর্জ্যে নদীর পানির রং পরিবর্তন হয়ে লালচে বর্ণে রূপ নিয়েছে। কর্ণফুলী নদীর কয়েক কিলোমিটার জুড়ে পানির রং পরিবর্তন হয়েছে। যেসব স্থানে পানি দূষিত হয়েছে শুধু সেসব স্থানেই মরছে মাছসহ অন্যান্য জীব।

এসময় কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে দেখা গেছে স্থানীয় লোকজন নানা কায়দায় মাছ ধরছে। এর মধ্যে কেউ হাতজাল দিয়ে আবার কেউ হাত দিয়ে ভেসে থাকা মৃত এবং অর্ধমৃত মাছগুলো ধরছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার সিএসপি নিউজকে বলেন, সুগার মিলের পোড়া চিনি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে এমন তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার আমাদের ল্যাব থেকে লোকজন গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে মাছসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য মারা যাচ্ছে বা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অবশ্যই এটি নদীর জন্য ক্ষতির কারণ।

এবিষয়ে হালদা নদী গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া সিএসপি নিউজকে বলেন, পুড়ে যাওয়া চিনি নদীতে পড়লে অবশ্যই নদীর ক্ষতি হবে। চিনি হোক আর যা হোক এগুলো এক্সট্রা কেমিক্যাল। এগুলো পানির কোয়ালিটি নষ্ট করবে। এতে পানিতে অক্সিজেনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ কারণে পানিতে থাকা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই এসব যাতে নদীতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে জোয়ার-ভাটার কারণে এই সমস্যা একসময় পূরণ হবে। তাও সময় সাপেক্ষ।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক এমডি আবদুল মালেক সিএসপি নিউজকে বলেন, আগুন এখনও জ্বলছে। হয়তো নিভতে আরও সময় লাগবে। যেখানে আগুন লেগেছে সেটিতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত চিনি মজুত ছিল। এগুলো এক ধরনের দাহ্য পদার্থ। পানি দিয়েও এ আগুন নেভানো যাচ্ছে না। এ কারণে আগুন নেভাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। তবে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কবে নাগাদ আগুন নেভানো যাবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। গুদামটির চারপাশ থেকে পানি দেওয়া হচ্ছে। গুদামটির টিন খুলে ফেলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (৪ মার্চ) বিকাল ৩টা ৫৩ মিনিটে নগরীর কর্ণফুলীর মইজ্যারটেক ইছাপুর এলাকায় অবস্থিত চিনি কারখানায় আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত জ্বলছে আগুন।

সিএসপি/বিআরসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ